সি ইউ নট ফর মাইন্ড- আমাকে নিয়ে আর খেলবেন না প্লিজ: ভাইরাল শ্যামল

 

 সি ইউ নট ফর মাইন্ড

গরিব ঘরের ছেলে 'হ্যাভ আ রিল্যাক্স', 'সি ইউ নট ফর মাইন্ড' এবং "চিলরে মামা চিল" ডায়ালগ খ্যাত গাইবান্ধা রেলস্টেশনের টিকিট বিক্রেতা শ্যামল। বিভিন্ন ইংলিশ ডায়লগ এর কারনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তার জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। ইতিমধ্যেই শ্যামল বিয়ে-শাদী করেছেন তাই বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করতে সকল ইউটিউবারদের অনোরোধ জানিয়েছেন। 

see-you-not-for-mind-amake-niye-ar-khelben-na-plz

{tocify} $title={Table of Contents}


শ্যামল আরো বলেন, আপনারা সবাই জানেন আমি দরিদ্র ঘরের একজন ছেলে। আর এই দরিদ্রতার সুযোগে সবাই আমাকে নিয়ে বিভিন্নভাবে তাদের নিজস্ব ফায়দা লুটতেছে। আপনারা জানেন, আমার বাড়ির পরিস্থিতি আমি গরিব ঘরের সন্তান। তাছারাও, আমি ইতিমধ্যেই বিয়ে-শাদী ও করেছি এবং গ্রামের সাদাসিদে ছেলে আমি সাধাসিধে ভাবেই থাকতে চাই।  ইউটিউবার সকল ভাইদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি, আপনারা আমাকে নিয়ে অনেক খেলেছেন, আর খেলবেন না প্লিজ। আমি গ্রামের সাদাসিধে ছেলে রেলস্টেশনে জব করি, আপনাদের এই খেলায় আর থাকতে চাই না।
 
 

যেভাবে ভাইরাল হলাম

গাইবান্ধায় রেলস্টেশনে আমি জব করি প্রায় কমবেশি সবাই আমাকে চেনে এবং জানে। আমি ইংলিশ ডায়লগ ছাড়া কোন সময় কথাই বলি না। আমার একটা চেষ্টা ছিল মোদি যদি হোটেল দিয়ে প্রাইম মিনিস্টার হতে পারে, তাহলে আমি কেন এটা বেকার ছেলে ইংরেজি কথা বলতে পারবোনা। এর জন্য আমি সবসময় ইংলিশে কথা বলার চেষ্টা করি এবং সবার সাথে ইংলিশে কথা বলি। কিন্তু এই ইংলিশ বলার মধ্যে যদিও ত্রুটি থাকে এই ত্রুটিকে কেন্দ্র করে অনেকেই মজা নেয়। ওটাই আমার ভালো লাগে কিন্তু একপর্যায়ে একটি ফেসবুক লাইভে  এসে আমার এই ইংরেজির অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আমি ভাইরাল হয়ে যাই।
 
 

 আমাকে নিয়ে আর খেলবেন না

 আমি গরিব ঘরের ছেলে, আমাকে নিয়ে আর খেলবেন না প্লিজ। মূলত আরেক সোশ্যাল মিডিয়া এন্টারটেইনার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের কাছে একটি বিষয়ে মাফ চাইতে এসে বিভিন্ন কথা তুলে ধরেন শ্যামল দা। শ্যামল দাবি করেন, তাকে ব্যবহার করে সকল ইউটিউবার এবং ফেসবুকার ফায়দা নিচ্ছে। তারাই তাকে বিভিন্ন অজুহাতে গান গাওয়ানোর মতো কাজ করিয়েছে। ইংলিশ ডায়লগ মারতে পছন্দ করি কিন্তু তারা জোরপূর্বক বাংলা ডায়লগ "হিরো আলমের দিন শেষ, শ্যামলের বাংলাদেশ" এ রকম কথাবার্তা শিখাই দিয়ে গান বানিয়েছে।
 
এই শীতে মেয়েদের ত্বকের যত্ন কেমন হওয়া উচিত, জেনে নিন

প্রথমে শ্যামল রায় বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন টিকিট বিক্রেতা জানা গেলেও ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চাওয়ার সময় তিনি নিজেকে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দাবি করছেন। শ্যামল গাইবান্ধা জেলার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার, বামনডাংগা নামক এলাকার শ্রী নেপাল চন্দ্র রায়ের ছেলে। অট্টহাসি এবং ‘হ্যাভ আ রিল্যাক্স, সি ইউ, নট ফর মাইন্ড’ ইংরেজি ডায়লগ এর কারনে তিনি সোশ্যাল প্ল্যাটফরমে ভাইরাল হন। দেশের সকল নেটিজেনদের কাছে শ্যামল দা নামটি অপরিচিত নয়।


ইউটিউবাররা আমাকে চাপে ফেলেছেন

শ্যামল দাবি করেন, ভাইরাল হওয়ার পর তাকে অনেক ইউটিউবার নানাভাবে চাপে ফেলে বিভিন্ন রকম সিস্টেমে ভিডিওর উপকরণ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, আমাকে নানাভাবে চাপে ফেলে লোভ-লালসা দিয়ে অনেকেই ভিডিও বানিয়েছে। শুধু তাই নয়, গান গাইয়েছে। আমি গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ, কিছু বুঝি নাই। যারা আমাকে দিয়ে ভিডিও বানিয়েছে তাদের সকল ইউটিউবারদের ফোনের রেকর্ড আছে। স্টুডিওতে গান করতে গিয়ে হিরো আলম ভাইকে নিয়ে যে ভিডিওতে বলেছি, আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা নাকি ওই ভিডিওটি ডিলিট করবে না। তা ছাড়া আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে আমাকে তারা হুমকি দিয়েছে, "তুমি যদি কাজ না করো, তাহলে তোমার খারাপ কাজ করব"।

 

সোশ্যাল মিডিয়ার কিছুই বুঝিনা

এদিকে ফেসবুক লাইভে- শ্যামলের কাছের কয়েকজনও দাবি করেন, শ্যামল ফেইসবুক এবং ইউটিউব সম্পর্কে তেমন কিছু বোঝেন না। তাকে নানান কিছু বোঝানো হয়েছে এবং যা ইচ্ছা তাই করানো হয়েছে। উনি উনি ফেসবুক এবং ইউটিউব সম্পর্কে তেমন কিছু বোঝেন না। এমনকি হিরো আলমকেও ভালোমতো চেনেন না। হিরো আলম ভাই মামলার হুমকি দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবি এবং শ্যামলদার সঙ্গে আলাপ করি। শ্যামল দা নিজেও এখন এসব নিয়ে বিব্রত এবং মামলার কথা শুনে সে খুব আতঙ্কে আছে যেহেতু গ্রামের ছেলে। 


শ্যামলের জীবনী

শ্যামলের বাবা শ্রী নেপাল চন্দ্র রায় একজন সাধারন ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী। মা শেফালী রানী একজন গৃহিনী এবং তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় শ্যামল। এই কিছুদিন হলো বিয়ে করেছে শ্যামল। তার ছোটভাই কমল চন্দ্র ও রাজা চন্দ্র বাবার সঙ্গে মাছের ব্যবসা করেন আর শ্যামল চন্দ্র 2005 সালে কাটগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন. এরপর অর্থাভাবে তার পরীক্ষা দেওয়া হয়নি এবং রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মাত্র কয়েক টাকা বেতনে টিকিট বিক্রি করতেন। বিভিন্ন মানুষের সাথে বিভিন্নভাবে তার দেখা সাক্ষাত হয় সেই প্লাটফর্মে এবং সে যেহেতু গ্রামের সাদাসিধে ছেলে কথাবাত্রা সাদাসিধে। দুই একটা ইংরেজি ও বলে। ইংরেজি ভুল হলেও সে বুঝতে পারে না। সে নিজেকে রিল্যাক্স রাখার জন্য বিভিন্ন সময় ইংরেজি বাক্য বলে থাকে কিন্তু তার এটাই একদিন কাল হয়ে দাঁড়াবে সে কোনোদিনই ভাবেনি।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Facebook

Recent